দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের বিনোদন জগতে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন মডেল আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। সম্প্রতি রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ: সাচ ইয়া সাজা’ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জগতের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে অশালীন প্রস্তাবের মুখে পড়েছিলেন, এমনটাই অভিযোগ তার।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আকাঙ্ক্ষা জানান, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য পোশাক ও প্রশিক্ষণ বাবদ তার ১ থেকে ২ লাখ রুপির প্রয়োজন ছিল। তবে সেই সামর্থ্য না থাকায় এবং পরিবার টাকা দিতে না পারায় তিনি ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির শরণাপন্ন হন। প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা করা আকাঙ্ক্ষা ভেবেছিলেন কাজের বিনিময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করবেন। কিন্তু সাহায্য করার কথা বলে সেই ব্যক্তি তাকে নিজ বাড়িতে ডেকে অশালীন প্রস্তাব দেন।
নিজের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আকাঙ্ক্ষা বলেন, আমি একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে চেয়েছিলাম। পোশাক, প্রশিক্ষণ-সহ নানা খরচের জন্য ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা দরকার ছিল। আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। বাবা-মাও টাকা দিতে পারেননি। তখন আমি এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তার নাম বলতে চাই না, কারণ তিনি খুব বড় নাম। বহু বছর ধরে তাকে চিনতাম। বিভিন্ন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আসতেন। শুনেছিলাম, তিনি অনেক প্রতিযোগীকে আর্থিক সাহায্য করেছেন। তাই আমিও তার কাছে দু’মাসের জন্য সাহায্য চেয়েছিলাম। বলেছিলাম, পরে কাজ করে সেই টাকা শোধ করে দেব। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি, ভাল কথা বলতে পারি, তাই তার সংস্থায় কাজও করতে পারতাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে আমাকে বাড়িতে ডাকেন।
বাড়িতে পৌঁছানোর পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তিনি হেনস্থার শিকার হন। তার কথায়, ওই বাড়িতে আমি আগে গিয়েছি। প্রশিক্ষকদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে দিন আমি পৌঁছোতেই উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন। শুধু জড়িয়েই ধরেননি, অশালীন ভাবে স্পর্শ করতে থাকেন। আমি তাকে সরিয়ে দিই। তার পর তিনি বসে বলেন, ‘এক বছর পর তোমাকে দেখে ভাল লাগছে। এখন তুমি বড় হয়েছ। এক বছর আগে যখন এসেছিলে, তখন তোমার চিন্তাভাবনা খুব সেকেলে ছিল। যদি তখন আমার সঙ্গে থাকতে, তা হলে এত দিনে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যেতে। এখন তো কেউ কাজ দিচ্ছে না। আমি তোমাকে টাকা দেব, কিন্তু তার বদলে আমার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে হবে।’ তিনি সব পরিকল্পনাও করে রেখেছিলেন। এক মাসে পাঁচ-ছয় বার তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে বলে জানান।
এমন পরিস্থিতিতে আকাঙ্ক্ষা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেই ব্যক্তিকে জানান, আগে থেকে এমন উদ্দেশ্য জানলে তিনি কখনোই সেখানে আসতেন না। জবাবে সেই ব্যক্তি তার চিন্তাভাবনাকে আবার ‘সেকেলে’ আখ্যা দেন এবং দাবি করেন যে, এই শিল্পে কাজ করতে হলে এগুলো মেনে নিয়েই এগোতে হয়।
অনুষ্ঠানে আকাঙ্ক্ষার মুখে এমন সাহসী সত্য প্রকাশের পর সঞ্চালক ফারাহ খান ও রিতেশ দেশমুখ তার প্রশংসা করেন। আকাঙ্ক্ষাকে সমবেদনা ও সমর্থন জানিয়ে ফারাহ খান বলেন, আশা করি, ওই ব্যক্তি এই অনুষ্ঠান দেখছেন এবং বুঝতে পারছেন, আজ তুমি কোথায় পৌঁছেছ। তোমার চিন্তাভাবনা মোটেই সেকেলে নয়, বরং একেবারে সঠিক। তোমাকে নিয়ে আমি গর্বিত।
কে